কাগজ ছেড়ে ডিজিটালে ঝুঁকছে পাঠক

মাঙ্গা ম্যাগাজিন শোনেন জাম্পের প্রচার সংখ্যা নামল ১০ লাখের নিচে

দীর্ঘদিন ধরে জাপানের মাঙ্গা ম্যাগাজিন জগতের সবচেয়ে বড় নাম ‘উইকলি শোনেন জাম্প’।

জনপ্রিয় ম্যাগাজিনটির প্রচার সংখ্যা একসময় ছিল ৬৫ লাখের বেশি। এখন সে সংখ্যা নেমে এসেছে ১০ লাখের নিচে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে ম্যাগাজিনটির গড় সাপ্তাহিক মুদ্রণ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৮৫ হাজার কপি। ২০০৮ সালের পর প্রথম ম্যাগাজিনটির প্রচার সংখ্যা ১০ লাখের নিচে নামল।

জাপান ম্যাগাজিন পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে। আগের তিন মাসের তুলনায় উইকলি শোনেন জাম্পের প্রচার সংখ্যা কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে এ পতনকে শুধু মাঙ্গার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টরা। কারণ জাপানে পাঠকের বড় একটি অংশ এখন কাগজের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে মাঙ্গা পড়ছেন।

উইকলি শোনেন জাম্পের সবচেয়ে ভালো সময় ছিল ১৯৯০-এর দশক। ১৯৯৪ সালের শেষ দিকে ম্যাগাজিনটির সাপ্তাহিক প্রচার সংখ্যা সর্বোচ্চ ৬৫ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছিল। এটি শুধু ম্যাগাজিনটির ইতিহাসেই সর্বোচ্চ নয়, মাঙ্গা প্রকাশনার পুরো শিল্পেরও রেকর্ড। সে সময় ‘ড্রাগন বল’ ও ‘স্ল্যাম ডাঙ্ক’-এর মতো জনপ্রিয় সিরিজ নিয়মিত প্রকাশ হতো ম্যাগাজিনটিতে। এসব সিরিজের ছিল বিপুলসংখ্যক পাঠক।

এরপর কয়েক দশকে চিত্রটি বদলে যায়। ২০১৭ সালে উইকলি শোনেন জাম্পের প্রচার সংখ্যা ২০ লাখের নিচে নেমে আসে। এখন তা ১০ লাখের নিচে।

তার পরও জাপানের মাঙ্গা ম্যাগাজিনের বাজারে শোনেন জাম্পের অবস্থান শীর্ষে। প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য ম্যাগাজিনগুলোর তুলনায় এর প্রচার সংখ্যার ব্যবধানও বড়। কোদানশার উইকলি শোনেন ম্যাগাজিনের সর্বশেষ গড় প্রচার সংখ্যা ২ লাখ ৮১ হাজার। শোগাকুকানের মান্থলি কোরোকোরো কমিকের প্রচার সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৩৩৩। এছাড়া শোগাকুকানের আরেকটি বড় মাঙ্গা ম্যাগাজিন উইকলি শোনেন সানডের প্রচার সংখ্যা ১ লাখ ২০ হাজার। সাম্প্রতিক সময়ে এসব ম্যাগাজিনের প্রায় সবক’টির প্রচার সংখ্যাই কমেছে।

তবে কাগজের ম্যাগাজিনের প্রচার সংখ্যা কমলেও মাঙ্গা নির্মাতারা সংকটে পড়েছেন, এমনটা বলা যায় না। এর অন্যতম কারণ হলো ডিজিটাল মাধ্যমে মাঙ্গা পড়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। জাপানের প্রকাশক ও পাঠক উভয়েই ডিজিটাল প্লাটফর্ম গ্রহণ করছেন। ফলে মুদ্রিত সংস্করণের চাহিদা কমলেও মাঙ্গা পড়ার আগ্রহ যে কমেছে, তা নয়। বরং পাঠকের একটি বড় অংশ এখন মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ডিভাইসে মাঙ্গা পড়ছেন।

ডিজিটাল মাধ্যমে মাঙ্গা পড়ার বড় সুবিধা হলো এটি সহজে পাওয়া যায়। যেসব এলাকায় বইয়ের দোকান বা ম্যাগাজিন বিক্রির দোকান কম, সেসব জায়গার পাঠকের জন্য এটি সুবিধাজনক। প্রতি সপ্তাহে দোকানে গিয়ে ম্যাগাজিন কেনার সময়ও লাগে না।

এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে মুদ্রিত মাঙ্গা বিক্রির ব্যবসায়। বিভিন্ন স্টোর ও রেলস্টেশনের দোকানগুলোয় মাঙ্গার পাশাপাশি অন্য পণ্যও বিক্রি হয়। ফলে এসব জায়গায় চাপ তুলনামূলক কম। কিন্তু বইয়ের দোকানের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে। কাগজের মাঙ্গার বাজার ছোট হলে এসব দোকানের ব্যবসায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

খবর ও ছবি জাপান টুডে

আরও